Showing posts with label ধাঁধা. Show all posts
Showing posts with label ধাঁধা. Show all posts

গোলকধাঁধা





ক. ওলটপালট :

নিচের পাঁচটি শব্দের বর্ণগুলো উল্টেপাল্টে গেছে। সেগুলোকে সাজিয়ে নিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ বানাতে পারবে?

তা ন হু শ

ধা র সু ক

শ ত য হা

জ স র সি

রা বা পা র


খ. অর্থ জানো কি?

১. দ্বিরদ, বারন, কুঞ্জর, দ্রুমারী, ইরম্মদ - এগুলো কীসের সমার্থক শব্দ?

২. জীমূত, তায়দ, বলাহক- এগুলো কীসের সমার্থক শব্দ?

৩. পুণ্ডরীক, কুবলয়, ইন্দীবর, কহ্লার- এগুলো কীসের সমার্থক শব্দ?

৪. পতত্রী, খগ, দ্বিজ, শকুন্ত- এগুলো কীসের সমার্থক শব্দ?



গ. ছড়ায় ধাঁধা :

১.

প্রথম অক্ষর বাদ দিলে ‘পরে
ধনুকে লাগাও তাকে,
শেষের অক্ষর বাদটি দিলে
সবার মাথায় থাকে।
আমিও থাকি ঘাড়ের ওপর
শোভা বাড়াই যাঁর,
মা দুর্গার পায়ের তলায়
স্থানটি শুধু তাঁর।


২.
দুষ্টু আমি পাজি অতি
কেউ ঘেঁষবে নাকো কাছে,
গলায় আমার নেইকো তবু
নামের শেষে আছে।
নামের মাঝে যদিও আমার
‘ভালো’ বসত করে,
তবুও আমি মন্দ কাজই
করছি যে প্রাণভরে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

উত্তর :

ক. ওলটপালট :

১. হুতাশন
২. সুধাকর
৩. হাতযশ
৪. সরসিজ
৫. পারাবার

খ. অর্থ জানো কি? 

১. হাতি
২. মেঘ
৩. পদ্ম
৪. পাখি

গ. ছড়ায় ধাঁধা :

১. কেশর
২. অসুর


গোলোকধাঁধা





ক. ওলটপালট :


নিচের চারটি শব্দের বর্ণগুলো উল্টেপাল্টে গেছে। সেগুলোকে সাজিয়ে নিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ বানাতে পারবে?

১) তা চা রি প আ লা

২) শা ল খী কা বৈ

৩) চ মা লো স না

৪) ন রা ন্দ আ ধা



খ. পারো কি?

১) শুধুমাত্র আটটা ৮ যোগ করে ১০০০ বানাতে হবে।

২) ৯-এর সাথে ৫ যোগ করে ২ কখন পাবে?


গ. গল্পের ভুল ধরো :

একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম, তার প্রায় প্রতিটি লাইনই ভুলে ভরা. বন্ধুরা, একটু খুঁজে বের করবে কী কী ভুল আছে গল্পের মধ্যে?


এলোমেলো গল্প

ছাব্বিশে জানুয়ারির সকাল. জলখাবারের থালা খাওয়ার টেবিলে রেখে গুছিয়ে বসলেন অম্লানবাবু. আজ তাঁর ছোট্ট স্টেশনারি দোকানটা বন্ধ রেখেছেন. বাজারে বেশ ভালো হিমসাগর পেয়েছেন আজ, একটু বাদেই কেটে দিতে বলবেন গিন্নিকে. ভেবেই জিভে জল চলে এলো. আহা, সিজনের সেরা ফল, এই গরমকালটুকুই তো পাওয়া যায়, ক'টাদিন মন ভরে খেয়ে নিতে হবে. ছেলে শুভায়ন গেছে স্কুলে, গাঁইগুঁই করতে করতে. তার নাকি ছুটির দিনে স্কুলে যেতে ভাল্লাগে না. খাচ্ছিলেন তৃপ্তি করেই, মাঝে ফোন বেজে উঠলো. এঁটো হাতেই কোনওরকমে ফোন কানে তুললেন অম্লান, বারান্দায় মোড়ায় বসে বাঁহাতে থালা ধরে খাচ্ছেন, যেখানে সেখানে এঁটো থালা নামানো যাবে না, গিন্নির হুকুম. ফোন করেছে অফিস-কলিগ অনুপম. ওঘরে টিভিতে ছেলে তারস্বরে শিনচ্যান চালিয়েছে, ফোনের কথা কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না. তাও যেটুকু শুনতে পেলেন, বুঝলেন অনুপমরা নাকি আজ বিকেলে তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে আসবে, সপরিবারে. অম্লান মহা ফাঁপরে পড়লেন. ছেলের স্কুলে পুজোর ছুটি, তাকে নিয়ে গিন্নি গেছেন বাপের বাড়ি. এখন অম্লান অতিথি আপ্যায়ন করেন কীভাবে? সংসারের কিছুই তো জানেন না তিনি. সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে হাঁক পাড়েন তিনি,

"কই গো, দুটো লুচি হবে নাকি?"


(সমাপ্ত)

***********************************


উত্তর :

ক. ওলটপালট :

১) আলাপচারিতা
২ ) কালবৈশাখী
৩) সমালোচনা
৪) আনন্দধারা

খ. পারো কি?

১) ৮৮৮+৮৮+৮+৮+৮=১০০০
২) সকাল নটা (9 a.m.) এর সঙ্গে ৫ ঘণ্টা যোগ করলে দুপুর দুটো (2 p.m.) পাওয়া যাবে


গ. গল্পের ভুল ধরো :

১. ছাব্বিশে জানুয়ারি শীতকাল, সেটা হিমসাগর আমের সিজন নয়. তখন পুজোর ছুটিও হওয়া সম্ভব নয়.
২. অম্লান টেবিলে খাবারের থালা রেখেছিলেন, পরে দেখা যাচ্ছে তিনি মোড়ায় বসে হাতে থালা ধরে খাচ্ছেন.
৩. শুভায়ন স্কুলে গেছে, তাহলে সে কী করে টিভিতে শিনচ্যান চালালো?
৪. অম্লানের স্টেশনারি দোকান, তাঁর অফিস কলিগ থাকা সম্ভব নয়.
৫. প্রথমে বলা হয়েছে অম্লান গিন্নিকে আম কাটতে বলবেন, তারপর বলা হয়েছে গিন্নি বাপের বাড়ি গেছেন, শেষে আবার অম্লান গিন্নিকে ডেকে লুচি দিতে বলছেন.

সাঙ্ঘাতিক সব গোলমেলে ব্যাপারস্যাপার!

পুজোসংখ্যার ক্যুইজ ও ধাঁধার উত্তর

ক্যুইজ :

১. ব্রহ্মা
২. শিবের অশ্রু
৩. হিমালয়
৪. ত্রিশূল
৫. রাবণবধের জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।
৬. নীলকণ্ঠ
৭. বিশল্যকরণী আনতে যাওয়ার সময় হনুমানকে বধ করা
৮. ব্রহ্মা
৯. যম
১০. পারিজাত
১১. কল্কি
১২. পার্বতী
১৩. চামুণ্ডা
১৪. কার্তিক
১৫. অর্জুন


ধাঁধা :

ক. কোকিল
খ. ১) করতালি
     ২) বরণডালা
     ৩) অপরাজিতা
     ৪) বিনায়ক
     ৫) কলাকুশলী
গ. তরমুজ
ঘ. 983

গোলোকধাঁধা



ক. বলো দেখি :

ডাকে সে মধুর সুরে
শেষে পিঠে দুম!
পেট যদি কেটে দাও
শুয়ে আসে ঘুম।


খ. ওলটপালট :

নিচের চারটি শব্দের বর্ণগুলো উল্টেপাল্টে গেছে। সেগুলোকে সাজিয়ে নিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ বানাতে পারবে?


১) তা র ক লি
২) লা ব ণ ডা র
৩) অ রা জি তা প
৪) ক বি য় না
৫) শ লী লা কু ক



গ. বলো দেখি!

গোলগাল মোটাসোটা
সবুজ জামা পরে,
ছুরির খোঁচা লাগলে গায়ে
লাল রক্ত ঝরে।

গরমকালে ঘুরতে আসে
ঠাণ্ডা করে পেট,
স্বাদখানা তার ভারী মিঠে,
আহা! বাহা! গ্রেট!


ঘ. মজারু :
নিচের ছবিটিতে একটিমাত্র দেশলাই কাঠি সরিয়ে সবচেয়ে বড় কোন্ সংখ্যা তৈরি করতে পারবে বলো তো?







গোলকধাঁধা




ক. বলো দেখি :

তেলে ভাজা, ভারী মজা
উপাদেয় খাদ্য
জিভে জল আটকাবে
আছে কার সাধ্য!

চুলকোবে গলাখানি,
যদি কাটো লেজটা
মাথা যদি কাটো তবে
জেলে যাবে শেষটা।


খ. ওলটপালট : 
নিচের চারটি শব্দের বর্ণগুলো উল্টেপাল্টে গেছে। সেগুলোকে সাজিয়ে নিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ বানাতে পারবে?

(১) টি কা মা দা
(২) সা জ র ল ঘ
(৩) ছ লা গা পা
(৪) ত রা প্রা শ


গ. বলো দেখি!

শীতকালের সব্জি
বড় বড় পাতা,
গোল তবু চেহারায়
সবুজ রঙের গা টা।

গোড়ায় যদি আটকে রাখো
শেষে বাঁদর হবে,
মাছের মুড়োয় স্বাদটা খোলে
বলো দেখি কী তবে?


ঘ. দুই ছবিতে তফাৎ খোঁজো :

নিচের দুটি ছবির মধ্যে রয়েছে প্রায় দশটি অমিল । খুঁজে বের করো দেখি কী কী অমিল পাও :





(ছবি : সুকান্ত মণ্ডল)


উত্তর পাঠাও মেইল করে , blog.kromosho@gmail.com আইডি তে। 

 সঠিক উত্তরদাতাদের নাম প্রকাশিত হবে পরের সংখ্যায় । ধাঁধার উত্তরও থাকবে পরের সংখ্যায় ।

জুলাই সংখ্যার ক্যুইজ ও ধাঁধার উত্তর

বিশ্বকাপ ফুটবল স্পেশাল ক্যুইজের উত্তর :

১. রোনাল্ডো লুইস নাজারিও দি লিমা, ব্রাজিল
২. ১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপ, জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচ
৩. ভুভুজেলা
৪. ইউএসএ এর বার্ট প্যাটানয়েড
৫. ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেন
৬. পিকলস নামে একটি কুকুর জুলে রিমে ট্রফি খুঁজে পায় দক্ষিণ পূর্ব লন্ডনের একটি পার্ক থেকে
৭. ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে চিলি এবং ইতালির ম্যাচ
৮. এঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ওপেন প্লে থেকে উইনিং গোল করে দেশকে জিতিয়ে দেন।
৯. মারিও কেম্পেস
১০. ১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপ
১১. ১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ
১২. জিনেদিন জিদান
১৩. ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপ
১৪. ১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপ
১৫. এঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া নিজেদের দেশের হয়ে প্রথম গোল করেন

প্রশ্নগুলি দেখতে ক্লিক করো নিচের লিঙ্কে :
https://kromoshokisholoy.blogspot.com/2018/06/blog-post_24.html?m=0

তেরোটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছেন তারাপ্রসন্ন দত্ত। তাঁকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ধাঁধার উত্তর :

ক. বলো দেখি : কলরব
খ. ওলটপালট : ১. জিভেগজা
                        ২. অনিন্দ্যসুন্দর
                        ৩. কড়িকাঠ
                        ৪. চুনসুরকি
গ. বলো দেখি : ফুটবল
ঘ. ভুল গল্প : গল্পে উল্লিখিত ভুলগুলি হলো :
১. ভূপেনবাবুর পায়ে চোট ,অথচ তিনি দুদ্দাড়িয়ে ছুটলেন।
২. শীতের রাতের কথা বলা হচ্ছে গল্পের শুরুতে , কিন্তু গল্প এগোলে জানা যাচ্ছে জামাই ষষ্ঠীর কথা । জামাইষষ্ঠী হয় গ্রীষ্মকালে ।
৩. ভূপেনবাবু ব্যাচেলর , কিন্তু একে একে তাঁর গিন্নি , মেয়ে সবাই ঢুকে পড়ছে গল্পে ।
৪. ভূপেনবাবু মেশিন ছাড়া কানে শোনেন না , তবে মেশিন খুলে রাখা অবস্থায় শব্দ শুনতে পেলেন কী করে ?
৫. ভূপেনবাবু নিজে রান্না করে খান , তাহলে রাঁধুনি আসে কোত্থেকে ?
৬. একবার বলা হচ্ছে ললিতা ভূপেনবাবুর একমাত্র মেয়ে ,আবার একবার তার স্বামী তাকে ছোটমেয়ে বলে উল্লেখ করছে ।
৭. ললিতার স্বামীর নাম অলকেশ , পরে আবার তার নাম ভুলবশত হয়েছে অম্বিকেশ ।
৮. যে লোকটি, বা ভূতটি কাঁঠাল নিয়ে পালালো , তাকে একবার বলা হচ্ছে লম্বা , একবার বলা হচ্ছে বেঁটে ।
৯. ললিতার বিয়ের এটা প্রথম বছর ,তবে তিন বছর আগে সে হানিমুনে যেতে পারে না ।
১০. কাঁঠালটা পরের দিন ভাঙার কথা ,ওটা ভাঙা হয়ইনি , এদিকে জামাই বলছেন ভূপেনবাবু নাকি অনেক কাঁঠাল খেয়েছেন ।

ধাঁধার প্রশ্ন  দেখতে ক্লিক করো নিচের লিঙ্কে :

https://kromoshokisholoy.blogspot.com/2018/06/blog-post_14.html?m=0

এই সংখ্যার ধাঁধার সঠিক উত্তর দিয়েছেন পৌষালী গুপ্ত । তাঁকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।


গোলোকধাঁধা




ক. বলো দেখি :


চার অক্ষরের শব্দ যে ভাই
হাঁকডাক করি শুধুই,
প্রথম অর্ধ বাদ দিলে ‘পরে
থামবে না ডাক মোটেই।

শেষের অর্ধ বাদ যদি দাও
ইংরাজিতে ‘ডাকি’,
বাংলায় হবে যন্ত্র সেটা
বল তো কী দেখি?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

খ. ওলটপালট
নিচের চারটি শব্দের বর্ণগুলো উল্টেপাল্টে গেছে। সেগুলোকে সাজিয়ে নিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ বানাতে পারবে?

১. ভে জা গ জি

২. অ ন্দ র নি সু ন্দ্য

৩. ঠ ক কা ড়ি

৪. সু ন র কি চু


~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গ. বলো দেখি !


লেজামুড়ো ছাড়ো যদি
গাছ পুঁতি তাতে 
শুরুখানা বাদ দিলে 
কিক মারি যাতে।
শেষ যদি কেটে দাও 
ঘুরি পথে পথে,
আমি আছি তাই সব
হুল্লোড়ে মাতে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ঘ. গল্পের ভুল ধরো :

নিচের গল্পটা খুব তাড়াহুড়ো করে লিখে ফেলেছি। তাতে থেকে গেছে অজস্র ভুল। বন্ধুরা, একটু খুঁজে বের করবে কি কি ভুল আছে গল্পের মধ্যে?

গাছে কাঁঠাল টাকে তেল

ধূপছায়া কুণ্ডু
সুস্মিতা মজুমদার

শব্দটা খানিকক্ষণ ধরেই শুনতে পাচ্ছিলেন ভূপেনবাবু, কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে আর পারছিলেন না। আজ বিকেলে পার্কে হাঁটতে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন, রীতিমতো খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে। ফুলে ঢোল হয়ে থাকা পা নিয়ে এই শীতের রাতে লেপের মায়া কাটিয়ে ওঠা কি চাট্টিখানি কথা! পাশে গিন্নি থাকলে নাহয় তাঁকেই ঠেলেঠুলে দেখতে পাঠাতেন কিসের শব্দ, কিন্তু সে গুড়েও বালি। মাথাই নেই, তার মাথাব্যথা! ব্যাচেলর মানুষ, একা থাকেন, একাই দুবেলা দুটো ফুটিয়ে খান, কাজেই রাতবিরেতে শব্দ শুনতে পেলে তাঁকেই উঠতে হবে বইকি। 

খাট থেকে নেমে চটি পায়ে গলিয়ে দুদ্দাড়িয়ে ছুটলেন বসার ঘরের দিকে, শব্দটা ওইখান থেকেই আসছিল তো। বসার ঘরে তখন ভুরভুর করছে গাছপাকা কাঁঠালের গন্ধ। ভূপেনবাবুর একমাত্র মেয়ে ললিতা আর তার বর অলকেশ এসেছে বিয়ের প্রথম বছরের জামাইষষ্ঠীর নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে, সঙ্গে এনেছেন তাঁদের বাগানের গাছপাকা কাঁঠালটি। ভূপেনগিন্নির আবার কাঁঠালে অ্যালার্জি, ছুঁলেই হাতে লালচে চাকা চাকা দাগ বেরোয়। তাই সেটা অমনি রাখা আছে, কাল সকালে রান্নার মেয়ে এসে কাটবে'খন। তা, ভূপেনবাবু দেখলেন সেই কাঁঠালখানা জাপটে ধরে সোফার পাশে কোনাচে মতন জায়গাটায় বসে আছে একটা লম্বা শুঁটকোপানা লোক। তাঁকে দেখেই গ্যালগেলে হাসি হেসে উঠে দাঁড়িয়ে এক পেল্লাই পেন্নাম ঠুকল সে, সেইসঙ্গে কিসব যেন বলে উঠল। ভূপতিবাবু আবার কানের মেশিন না পরলে কিস্যু শুনতে পান না। তিনি ইশারায় লোকটাকে বসতে বলে শোবার ঘরে এলেন। খাটের পাশের টেবিলে খুলে রাখা ছিল কানের মেশিনটা, সেটাকে পরে নিয়ে তড়িঘড়ি বসার ঘরে ফিরে এলেন। এসে তো তিনি হাঁ। লোকটা বেমালুম উবে গেছে। কোত্থাও নেই। 

বেশ খানিকক্ষণ এদিক ওদিক খুঁজলেন। তারপর জামাইয়ের ঘরে গিয়ে টোকা দিলেন। সে বেচারা ঘুম জড়ানো চোখে বেরিয়ে এল। ভূপেনবাবুকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে অবাক হয়ে বলল,
-“শরীর খারাপ করছে নাকি বাবা? তখনই বললুম অত কাঁঠাল খাবেন না। আপনার ছোটোমেয়েও অত করে বারণ করল, কারোর কথা শুনলেন না।”
ভূপেনবাবু বিরক্ত হয়ে বললেন,
-“আরে দূর বাবা ওসব কিছুনা। বসার ঘরে কে একটা বেঁটে টাকমাথা লোক তোমার আনা কাঁঠালটা নিয়ে পালিয়ে গেল যে।”
ভূপেনবাবুর কথা শুনে অম্বিকেশ বেরিয়ে এল ঘর থেকে। তারপর বৈঠকখানায় গিয়ে দেখল কেউ নেই কাঁঠালও নেই। হঠাৎ হো হো করে হেসে বলল,
-“ও হো! বুঝেছি! ও তো কানাই। আমাদের বাড়ির পুরনো চাকর। বছর তিন আগে মারা যায়, তখন আমি আর ললিতা হনিমুনে গেছিলাম বলে শেষ দেখা দেখতে পাইনি। বড্ড কাঁঠাল খেতে ভালোবাসত কানাইদা। বিশেষ করে আমাদের বাড়ির ওই গাছটার পাকা কাঁঠাল। আজ তাই মনে হয় ঐ কাঁঠালের লোভেই এসেছিল। যাকগে আপনি চিন্তা করবেন না বাবা, শুয়ে পড়ুন। কানাইদা কারোর ক্ষতি করে না, ও খুব ভালো ভূত।”

এই বলে অলকেশ চলে গেল নিজের ঘরে। ভূপতিবাবুও ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে গেলেন নিজের ঘরে। মনে মনে ভাবলেন, ভূতের কপালেও কাঁঠাল জোটে, শুধু তাঁর বেলাতেই যত বিধিনিষেধ।

(সমাপ্ত)




উত্তর পাঠাও মেইল করে , blog.kromosho@gmail.com আইডি তে। 
 সঠিক উত্তরদাতাদের নাম প্রকাশিত হবে পরের সংখ্যায় । ধাঁধার উত্তরও থাকবে পরের সংখ্যায় ।