Showing posts with label ছড়া. Show all posts
Showing posts with label ছড়া. Show all posts

ছড়ার ছন্দে : হিমেল দিনে : উৎপলকুমার ধারা



আকাশটা যেই হিমেল হাওয়া দেয় ছড়িয়ে,

সূয্যিমামা তখন হাসি দেয় ঝরিয়ে,

হিম ঝুরঝুর শিশির মাখা সবুজ ঘাসে,

ডালিয়া গাঁদা মিটমিটিয়ে ওই যে হাসে।



পেরজাপতি মৌমাছিরা সকাল হলে,

সোনালী রোদ মাখতে আসে ফুলের কোলে,

ছোট্ট খোকা পায় না ভেবে কেমন করে,

উড়ছে ধোঁয়া মুখ থেকে তার শীতের ভোরে?



মন মেতে যায় সবুজ মাঠে ক্রিকেট খেলায়,

জমিয়ে মজার গল্প দাদুর সন্ধ্যেবেলায়

রান্নাঘরে খেজুরগুড় আর গরম পিঠে,

হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা রাতে ভীষণ মিঠে।



যখন আসে শীতের বুড়ি লম্ফ দিয়ে,

রাত কেটে যায় লেপের ভেতর মুখ লুকিয়ে! 


অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী

ছড়ার ছন্দে : পৌষ পাবণে : ঝিল দত্ত



"ও পুঁটির মা, পৌষ পাবণে করছ এত কী?
পুঁটি তোমার শ্বশুরবাড়ি, ভাগ্নে এল বুঝি!"
"বটা আমার বিদেশ গেছে, দিয়েছে যে চিঠি।
গোটাকতক পুষ্যি ছাড়া কার জন্য কী?

মনটা তো চায় এই পাবণে ওদের কিছু দিই,
গণ্ডা চারেক বেড়াল আছে, মণ্ডা রেখেছি।
চানু আসবে বিকেলবেলা, পানু আসবে রাতে,
বুঁচি আসবে রাত পোহালেই, মালপোয়া চাই পাতে।

খেঁদি, মেনি, ভূতি, তুলি, লালি, কালি, তুষি,
ওদের কচি ছানাগুলো পায়েস পেলেই খুশি।
বুধিগাইটা সরাপিঠে দিব্যি পারে খেতে,
একটি খেয়ে জিভ বাড়িয়ে দশটি পারে নিতে।

হবা, গবা ছাগলদুটোর গোকুলপিঠেয় মন,
বলে ''পিসি আর একটা দাও দিচ্ছোই যখন''!
মাঠের খুশি সারা হলে আসবে ছেলের দল,
উড়িয়ে ধুলো, হাত-পা'গুলো, বসবি খেতে চল।

চাকুম-চুকুম, চকচকে চোখ, একটা পাটি জোড়া,
হাত ভরে যায়, প্রাণ ভরে যায়,আপনজন তো ওরা!



অলঙ্করণ : রঞ্জন দাস


ছড়ার ছন্দে : পাহাড়তলির শীত : তরণী পাত্র


জানলাখানা যেই খুলেছি পাহাড় দেখি দূরে,


সেখান থেকে হিমেল বাতাস আসছে যে ফুরফুরে। 


পাহাড় যেন হাত বাড়িয়ে আকাশ চেঁছে নিয়ে,

ঝালর বোনে কুয়াশার ঐ মিহি সুতো দিয়ে।


তারই কিছু দেয় ছড়িয়ে পাহাড়তলির মাঠে,

যেথায় শীতের আমেজ মেখে মজুরে ধান কাটে। 


যে ছেলেটা চরায় গরু, থাকে বাগদি পাড়া,

হাতে যে তার বাঁশের বাঁশি, করেনি কাছছাড়া। 


ফুঁ দেয় সে আপন মনে, বাজে করুণ সুর

পেরিয়ে পাহাড়, আকাশ ছুঁয়ে, যায় যে বহুদূর।


গাছের পাতা দুলতে ভোলে, বাতাস যে যায় থেমে 

পাহাড় থেকে ঝরঝরিয়ে, ঝরনা আসে নেমে।



অলঙ্করণ : সুকান্ত মণ্ডল

ছড়ার ছন্দে : শীতের চিঠি : দুর্গা চরণ ঘোষ





শীতের চিঠি এসে গেল হিমেল হাওয়ায় ভেসে,

এই যে চিঠির জবর খবর ছড়ায় মজার দেশে।

ডালে ডালে কাঁপন লেগে খসলো হলুদ পাতা,

শাল মহুয়ার বনে বনে স্বপ্ন সবুজ গাঁথা।

পিঠে পুলির গন্ধ ওড়ে নলেন সুবাস ছোটে,

পথের পাশে সরষে ক্ষেতে সবুজ আঁচল লোটে।

ব্যাঙ-ব্যাঙাচি কাঁকড়া শামুক শীতের এ মরসুমে,

দীপাবলীর আমোদ শেষে পড়ল গভীর ঘুমে।

গরম গেল, এবার খুশি ছড়ায় দিকে দিকে,

গ্রাম শহরের সকল মানুষ মজে যে পিকনিকে।

শীতল সাঁঝে বারান্দাতে দিয়ে চাদর মুড়ি,

রূপকথাদের যতেক খবর শোনায় শীতের বুড়ি।

জমবে মেলা ভুবনডাঙায়, না হয় অজয় ধারে,

বাউল সুরে মাতবে এসো, ডাকছি বারে বারে।


অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী

ছড়ার ছন্দে : শীতকাতুরে সীতেশবাবু : রূপসা ব্যানার্জী



শীতকাতুরে সীতেশবাবুর শীতকে বড় ভয়,

সর্দি বসে বুকে যদি নিউমোনিয়া হয়!

উত্তুরে ঐ ঠাণ্ডা হাওয়ার যেই না বওয়া শুরু,

সীতেশবাবু চাপান গায়ে লেপ-কম্বল পুরু।

বাইরে গেলে ভারী জ্যাকেট, মাথায় মাংকি টুপি,

অ্যাস্ট্রোনটের বেশে যেন চলেন বহুরূপী।

গরম তবু রয় না শরীর, হাঁচেন পঁচিশ বার,

শীতের চোদ্দপুরুষ করেন গাল দিয়ে উদ্ধার।

এমন সময় গিন্নী এসে দাঁড়ান হাসিমুখে,

নলেন গুড়ের পায়েস-পিঠে সামনেই দেন রেখে।

চেটেপুটে সবটা খেয়ে বলেন সীতেশবাবু,

“যদিও শীতে করল আমায় সর্দিজ্বরে কাবু,

তবুও তাকে করছি ক্ষমা, আমার মনে হয়,

যেমন ভাবি, শীত-ঋতু ঠিক তেমন খারাপ নয়।”


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : শীতে মোদের গ্রাম : শক্তি প্রসাদ ঘোষ



সর্ষে ফুলের হলুদ মাঠে
শিশির ভেজা পায়ে,
ছোট্ট খুকি ঘুরে বেড়ায়
আমাদেরই গাঁয়ে।

খেজুর গুড়ে মিষ্টি পিঠে
পৌষপাবণের গান,
গাঁয়ের পাশে তোর্ষানদী
জুড়ায় মোদের প্রাণ।

সীম, টমেটো, মটরশুঁটি
গ্রামের মাঠে ভরা,
নদীর তীরে ধানের ক্ষেত
সবুজ করে ধরা।


অলঙ্করণ : রঞ্জন দাস

ছড়ার ছন্দে : শীত : শংকর দেবনাথ



মিঠেল রোদের আদর মাখা
হিম চাদরে অঙ্গ ঢাকা
আসলো দেশে শীত তো,
সরষে ফুলের হলদে হাসি
সবজি খেতের সবুজ রাশি
ভরায় চোখ ও চিত্ত।

বাঁওড় বিল আর নদীর তীরে
পাখির হাজার আঁখির ভিড়ে
প্রাণের মায়াবৃত্ত,
শরম মাখা নরম দুপুর
বনভোজনের মন হারা সুর
পুলক জাগায় নিত্য।

নলেন গুড়ের সুবাস মিঠে
মায়ের করা পায়েস পিঠে
খেজুর রসের মিথ্ তো,
হিম কুয়াশার চাদর গায়ে
শহর এবং পাড়াগাঁয়ে
বেড়ায় ঘুরে শীত তো।

অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী

ছড়ার ছন্দে : জব্দ : শেলী ভট্টাচার্য (অন্তহীনা)



পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা
ভীষণরকম বিচ্ছু,
শাঁকচুন্নি মা যা বলে তা
শুনতে না চায় কিচ্ছু।

গুরুভূতে শেখাতে চায়
দাঁত খিঁচানোর ছড়া,
নেয় না কানে, ডিগবাজি খায়
করতে চায় না পড়া।

একদিন তাই রাগের চোটে
মামদো বাপ যে এসে,
ঘরের মধ্যে সব ছানাকে
বন্ধ করলো ঠেসে।

ছোট্ট ছানা তাও ডরে না,
ফিকফিকিয়ে হাসে,
তারপরে এক আয়না দেখে
আঁতকে ওঠে ত্রাসে।

মামদো ভূতে বলতে থাকে
'”দেখ তোদেরই মত,
এইখানেতে আটকে রেখে
জব্দ করি কত!”

ছানারা সব বলতে থাকে
দাঁড়িয়ে নিচু মাথায়,
“এবার থেকে শুনবো আর
চলবো সবার কথায়।”

মামদো ভাবে মিচকি হেসে
হয়েছে সঠিক জব্দ,
ভূতের ছানার বাঁদরামো সব
বাপ করেছে স্তব্ধ।

অলঙ্করণ : শেলী ভট্টাচার্য

ছড়ার ছন্দে : শীত এসেছে : স্বপনকুমার বিজলী



ঝরছে পাতা চারিদিকে
গাঁয়ের নানা গাছে,
চড়ুই শালিক করছে খেলা
পাকা ধানের কাছে।

লাঠি হাতে ঠাম্মি ঘোরে
গায়ে চাদর মুড়ে,
মায়ের হাতের পিঠে পুলি
খাচ্ছি নলেন গুড়ে।

মাংকি টুপি সোয়েটারে
উঠছি তবু কেঁপে,
সন্ধে হলে পড়ার পরে
ঢুকে পড়ি লেপে।

নিউইয়ার আর কেক বড়দিন
কমলা লেবু পেয়ে,
শীত আসে যেই মনটা ওঠে
খুশিতে গান গেয়ে ।



অলঙ্করণ : আবির

ছড়ার ছন্দে : ওরা ও আমরা : তপশ্রী চক্রবর্তী ভৌমিক




ওদের জগৎ অনেকখানি, বাগান ভরা ফুল- 

মোদের জগৎ বাক্স-বন্দী, ফুলদানী-সঙ্কুল । 


ওদের জীবন হাল্কা-পালক, কাশের দোলায় ভাসে,

মোদের জীবন বেজায় কঠিন, আবদ্ধতার ফাঁসে ।


শরৎ কালের আগমনী, ওদের কাজ-ফিরিস্তি -

ইস্কুলেতে মোদের তখন, পরীক্ষা-প্রস্তুতি । 


ওদের পুজো উদোম খুশী, প্রকৃতিরই মাঝে -

বিপদ যদিও লুকিয়ে থাকে পদ্মবনের খাঁজে । 


মোদের পুজো নতুন পোশাক, নানান থিমের চমক -

হরেক রকম বিলাসিতা, বাহুল্যেরই মোড়ক । 


ওদের চাওয়া সামান্যটুক, মোদের অফুরন্ত -

ওদের পাওয়া অলীক-স্বপ্ন, মোদের রোজ জীবন্ত। 


তবুও ওদের সুখ অনাবিল, এই প্রকৃতিজোড়া -

মোদের মনেই যত অসুখ, অসন্তোষের ধারা ॥ 


(সমাপ্ত)


অলঙ্করণ : দেবলীনা দাস

ছড়ার ছন্দে : গাছগুলি : মহাশ্বেতা রায়



একটা গাছে ফাগুন মাসে

নীলচে নীলচে স্বপ্ন ফোটে

আরেক গাছে বোশেখ মাসে

হলুদ আলোর ঝর্ণা ছোটে।

একটা গাছে বর্ষাকালে

সুগন্ধী সব চামর দোলে,

আরেকটা গাছ শীতের শেষে

নীল আকাশে আগুন জ্বালে।

একটা গাছে আশ্বিন মাসে

আগমনীর টাপুর টুপুর, 

আরেকটা গাছ শীতল বাতাস,

ঘুমপাড়ানি অলস দুপুর। 

গাছগুলো সব পড়শি আমার, 

সবুজ বন্ধু, মনের মতন; 

ছায়ায়, মায়ায় ভরিয়ে রাখে

আমার পাড়া, আমার জীবন।



অলঙ্করণ : সুকান্ত মণ্ডল

ছড়ার ছন্দে : আজ ছুটি : শঙ্কর কুমার চক্রবর্ত্তী






ভোর হলো খোকা-খুকু ঘুমিও না আর

চেয়ে দেখো বাইরে ফুলের বাহার

কত পাখি গাছে-গাছে গায় বসে গান

হাওয়া এসে দোল দেয় মাঠে পাকা ধান।


বাইরে তাকিয়ে দেখো সোনা রোদ হাসে

ওই দেখো আকাশেতে মেঘ উড়ে আসে

ওরা যাবে দূর দেশে এই বারে ছুটি

রোদ মেখে উড়ে আসে টিয়া পাখি দুটি।


হাত-মুখ ধুয়ে করো আজকের পড়া

কত ভালো-ভালো লেখা গল্প ও ছড়া

বেলা বাড়ে মা'র তাই ব্যস্ততা খুব

তোমরাও বই খুলে তাই দাও ডুব।


পড়া শেষে এসে দেখো প্রজাপতি কত

গাছে-গাছে ফুটে আছে ফুল শত-শত

আজকের দিন ক'তো খুশি লুটোপুটি

আনন্দে ভাসো আজ রোববার ছুটি!!

(সমাপ্ত)


অলঙ্করণ : সুকান্ত মণ্ডল

ছড়ার ছন্দে : ঝগড়া : সুজাতা চ্যাটার্জী



হঠাৎ করে সেদিন রাতে, যেই ভেঙ্গেছে ঘুম,

শুনতে পেলুম কাদের যেন, ঝগড়া করার ধুম।



“আমার কাছে আসবি না তুই, দূরে দূরেই থাক,

তোর গায়েতে গন্ধ এমন, জ্বলছে আমার নাক।”

“গন্ধ আমার থাকতে পারে, নোংরা মোটে নই,

জগৎজোড়া ধুলো কাদা, তোর গায়েতেই ওই।”

“মাটির মানুষ, গায়ের 'পরে রয়েছে মাটি তাই,

আমার কাছে তোর মতো ওই হাজার মুখোশ নাই!”

“তোর তাতে কী, আমার মুখোশ পরলে 'পরে আমি?

আমি তো ভাই তোর চাইতে, অনেক বেশি দামী!”

“সস্তা হলেও, আমায় সবাই ভীষণ ভালোবাসে,

তোর রূপেতে সব্বাইকার চক্ষেতে জল আসে!”



ভয়ের চোটে আমার এবার ধড়াস ধড়াস বুক –

বুঝতে পারি শুকিয়ে গেছে, গলা এবং মুখ।

দেব-দেবী সব স্মরণ করে, খাটের থেকে নামি,

ঝুলঝাড়াটা বাগিয়ে ধরে, বেরিয়ে আসি আমি।

জ্বালিয়ে আলো, সাবধানেতে, এদিক-ওদিক চাই,

একলা ছিলাম, একলা আছি, কোত্থাও কেউ নাই।

কেবল দেখি রান্নাঘরে রয়েছে দুটো ঝুড়ি,

দশটা মতন রয়েছে আলু, পেঁয়াজ গোটা কুড়ি।


(সমাপ্ত)

অলঙ্করণ : দেবলীনা দাস


ছড়ার ছন্দে : মনের সাধ : জয়শ্রী দাস



টাপুর টুপুর বৃষ্টি দুপুর
মিষ্টি হাওয়ার সনে,
গুনগুনিয়ে মনের কথা
বলছে কানে কানে।

ছুটির দুপুর ভারী মজা
এক মনে চেয়ে রই,
মা বলল, "এই ফাঁকিবাজ
হচ্ছে পড়া কই?"

বেজার মুখে যেই না আবার
করছি শুরু পড়া
গাছের ডালে পাখির ডাক
মনকে দিল নাড়া।

কী সুন্দর দেখতে ওদের!
চলছে মেলে ডানা,
আমিও যদি হতাম পাখি
করতো না কেউ মানা।

যখন তখন ইচ্ছে মতন
হেথাহোথা পাড়ি,
বদ্ধ খাঁচায় না আটকে
মন সুদূর প্রসারী।


অলঙ্করণ : আবির

ছড়ার ছন্দে : ভূতুমের পড়াশোনা : দেবলীনা দাস




এক যে ছিল ছোট্ট ভূতু, বটগাছে তার বাসা।
ঝাঁকড়া চুলে ভর্তি মাথা, দুষ্টুমিতে ঠাসা।

নাড়িয়ে ঝুঁটি, দুলিয়ে মাথা, বটের ঝুরি ধরে
খায় সে দোলা, মনখানা তার কোন আকাশে ওড়ে।

শেলেট পুঁথি বাক্সে ভরে গাঁয়ের ছেলেমেয়ে
ইশকুলে যায়, ভূতুমছানা তাকিয়ে দেখে চেয়ে।

মায়ের কাছে বায়না ধরে, আমিও যাব স্কুলে,
ধারাপাতের বই কিনে দাও, পড়ব দুলে দুলে।

বইও আসে খাতাও আসে, আসে কলম কালি;
নাচেন ভূতু আনন্দে আর বাজান হাতে তালি।

বাবার আঙুল ধরে ভূতুম পৌঁছল পাঠশালা -
পড়তে বসে ঘুম পেয়ে যায় - এইটে বড় জ্বালা।

সারাটি রাত ধরে ভূতের নাচনকোঁদন চলে,
সকাল কাটে হাই তুলে তার রাতে জাগার ফলে।

অ আ ক খ’র পাঠের মাঝে যেই পড়েছে ঢুলে,
গুরুমশাই বিশাল হেঁকে টান দিয়েছেন চুলে।

যোগবিয়োগে মন বসে না, সদাই উড়ু উড়ু,
অঙ্ক খাতায় ভুল বেড়ে যায়, চক্ষু পাকান গুরু।

সটান শুয়ে ঘুমোন ভূতু বেঞ্চিখানার 'পরে।
এই খেয়েছে, গুরুমশাই মারতে আসেন ধ'রে!

“দুত্তেরিকা” - বলে ভূতুম ঘরপানে দেয় হাঁটা -
“নয়কো সহজ পড়াশুনো। গুরুমশাই, টা টা।”

ভূতুর বাবার নানান রকম ফন্দি ছিল জানা -
নাইট স্কুলে ভর্তি হল ভূতের যত ছানা।

“ইচ্ছে হলেই উপায় থাকে”, বলেন হেসে গুরু,
সে রাত থেকেই ভূতুমছানার পড়াশুনোর শুরু।



অলংকরণ : দেবলীনা দাস

ছড়ার ছন্দে : মেঘের দেশে : লীনা রায় মল্লিক





মেঘের দেশে পাড়ি দেবো
স্বপ্ন দেখি রোজ,
জানবো আমি নতুন জগৎ
করব নতুন খোঁজ।

সূয্যিমামা কেমনে লুকোয়
মেঘের অন্তরালে,
দৌড়ে গিয়ে দেখবো সেথা
আমি খেলার ছলে।

টাপুর টুপুর বৃষ্টি কেমন
আসে ও দেশ থেকে,
আকাশভেদী আলোর রেখা
ভয় পেয়ে যাই দেখে।

দূর আকাশে মেঘের পাহাড়
দেয় যে হাতছানি,
মাগো আমি যাবো সেথা
দেখব জগৎখানি।


অলঙ্করণ : লীনা রায় মল্লিক


ছড়ার ছন্দে : লিমেরিক : শুভ্র দত্ত





ছড়ার ছন্দে : লাগ ভেলকি : সুস্মিতা কুণ্ডু



সবজে ঘাসে 
ফুলের বাসে
রাংতা মোড়া আকাশ পানে,

ফড়িং নাচে
পিঁপড়ে হাঁচে
চাপবি তো আয় উড়ন যানে।

সাঁই ফটফট
কান কটকট
চক্ষু মুদে প্যাঁচা ঢোলে,

দাঁত কপাটি
লাগাও চাঁটি
বেসুরো তাল কাঠের খোলে।

গাছের মাথায়
ব্যাঙের ছাতায়
রোদ মাখানো হলুদ বাটা,

নদীর পাড়ে
ছপাৎ দাঁড়ে
নৌকো দোলে জোয়ার ভাঁটা।

সেই নগরে
ফুল টগরে
রাস্তাঘাটে বিছিয়ে সাদা,

চলছে মেলা
হাজার খেলা
লাড্ডু পাঁপড় পেটটি নাদা।

হেঁইয়ো করে 
চলছে জোরে
হুনহুনা সব পালকি দোলা,

পাগলা সাধু
জমায় জাদু
ভেলকি বোঝাই চটের ঝোলা। 

চরকি বাজি
আলোর সাজি
মাঝ আকাশে ফানুস ছোঁড়ে,

থাকলে ডানা
নেইকো মানা
হাউই চেপে যাক না উড়ে।


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : আমার পড়শি : অনসূয়া খাসনবীশ



হরলিক্স শিশি কেটে
ঢেকে রাখা চোখটায়
ওই দেখো চেয়ে আছে
ও বাড়ির লোকটা।

গলগল ঘাম হলে
রোদে বসে গান গায়,
শীত প'লে ঘসঘস
মুখ মোছে গামছায়।

চারখানি চুল আছে
চোখগুলো গোল গোল,
নুন ছেড়ে ডালে দেয়
গোটা দুই চারকোল।

সকালে সে গান গায়,
ভোমরায় গুনগুন
রাত্তিরে জানলায়
কাশি জোড়ে খুনখুন।

এসবই হয়-টয়
বিশ্বাস করে নাও
আমারই তো পাশে থাকে
ঘংচাকু প্যাঁকচাও।।



অলঙ্করণ : অনসূয়া খাসনবীশ

ছড়ার ছন্দে : এলোমেলো ছড়া : দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী




কুট কুট ক্যাডবেরি খাওয়া ভূত দেখেছো?
ঘুট ঘুট মিশকালো আঁধারে
ছুট ছুট ছুটে গেলে
বাতাসে সে মিশে যায়
মনে ভাবি- এ কেমন ধাঁধা রে?

গুন্ গুন্ গান গায় কানকাটা কুন্ডু
ঠুন ঠুন সুর তোলে সেতারে,
ফুর ফুর চুল তার উড়ে যায় বাতাসে
খিল খিল হেসে ওঠে বেতারে।

গুম গুম কিল দেয় মামদোর মামিমা
ঘুম ঘুম গেলে মাঝ রাত্রে,
কট কট করে কান তাই রোজ সকালে
মট মট ব্যথা হয় গাত্রে।

খিল খিল হাসো যদি শুনে এই ছড়াটা
পিল পিল কামড়াবে পোকারা,
টিকটিক টিকিটিকি ঠিকঠিক বলে ওই
ফিকফিক হাসে দেখো বোকারা।


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু