Showing posts with label ছড়া. Show all posts
Showing posts with label ছড়া. Show all posts

ছড়ার ছন্দে : আঁকছে শরৎ মিষ্টি মেয়ে : উৎপলকুমার ধারা



কয়লা মেঘের আকাশ দিয়ে
রাত গড়িয়ে সকাল-দুপুর 
একটানা জল ঝরছিলো কাল 
টিপ টিপ টিপ টাপুর টুপুর । 

কোথায় গেল সেই কালো মেঘ 
এক নিমেষে নিরুদ্দেশে 
আজ দেখি ফিন দুধ-সাদা মেঘ 
নীল আকাশে যাচ্ছে ভেসে । 

ভাসতে ভাসতে মেঘটা আবার 
দিচ্ছে খানিক জল ঝরিয়ে 
পরক্ষণেই মেঘ ছিঁড়ে রোদ 
দিচ্ছে সোনার-রঙ ছড়িয়ে । 

মাঠের আলে হাওয়ার তালে 
দুলছে সফেদ কাশের মাথা 
দোল দোলাদোল খাচ্ছে হাওয়ায় 
সবজে বরন ধানের পাতা । 

দুষ্টু ছেলে তুলছে ঝিলে
সাঁতার দিয়ে শালুক ডাঁটি 
দুর্গা মাকে গড়ছে পোটো 
দুম ধড়া ধড় মাখ্ছে মাটি । 

ঢ্যামকুড়াকুড় ঢাকের আওয়াজ 
হাওয়ার ঢেউয়ে আসছে ধেয়ে 
ফুল সাজিয়ে শিউলিতলায় 
আঁকছে শরৎ মিষ্টি মেয়ে ॥

অলঙ্করণ : আবির

ছড়ার ছন্দে : বদ্যিনাথের পিসি : তুহিন কুমার চন্দ



চাঁদের দেশে পাহাড়পুরের বদ্যিনাথের পিসি,
চাঁদের থেকে জল আনবেন তাই নিয়েছেন শিশি।

শিশি তো নয় মোবিল রাখার আস্ত একটা ড্রামে,
যেই বলেছি "করবেটা কী লাগবে কীসের কামে?"

রেগে গিয়ে বলেন পিসি "কী হবে তোর জেনে,
পারবি দিতে জল আমাকে চাঁদের থেকে এনে?"

পিসির কাছে আমরা হলাম হতচ্ছাড়ার দল,
চাঁদের দেশে যাবেন শুনেই হচ্ছে কোলাহল। 

পিসির ব্যাগে জপের মালা তিলক মাটি আর,
এইটা নিয়েই চাঁদের দেশে হবেন তিনি পার।

ডাকেন তিনি গৌর-নিতাই নিজের দুইটি ছেলে, 
বলছে পিসি "ভালো থাকিস যাচ্ছি রে সব ফেলে।"

চাঁদের দেশে পাহাড়পুরের বদ্যিনাথের পিসি,
চাঁদের থেকে জল আনবেন তাই নিয়েছেন শিশি।


অলঙ্করণ : সুকন্যা

ছড়ার ছন্দে : নামের গেরো : বদ্রীনাথ পাল




বকখালিতে বক মোটে নেই, হাসখালিতে হাঁস,
বাঁশদ্রোণীতে যায় কি দেখা বলো শুধুই বাঁশ!
হাতিবাগান মানুষ ভরা, নেই কোথা কুঞ্জর-
আরামবাগে বাগান কোথায়, শুধুই বাড়িঘর।


শেয়ালদহে নেই তো শেয়াল,যতই করো খোঁজ,
'হরি মটর' নামেই খাওয়া, নয় তো ভুরিভোজ।
উল্টোডাঙ্গায় উল্টো কিছু দেখেছো কি ভাই?
পেয়ারাবাগান দ্যাখো গিয়ে পেয়ারা বাগান নাই।


একটিও নেই রাজা, তবু রাজাবাজার নাম,
শ্যামবাজারে যতই খোঁজো-পাবে কি আর 'শ্যাম'?
বাগেরহাটে বাঘের দেখা! স্বপ্ন দেখার আশ,
নামের গেরোয় আটকে এরা করছে যে হাঁসফাঁস।


ছবি : আন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত

ছড়ার ছন্দে : এগোয় হাওয়া : মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস



সরষে ক্ষেতের পাশ ছাড়িয়ে
উঠছে যেথা ঝিঙের মাচা
বন্ধ হল হাওয়ার নাচা৷

দাঁড়িয়ে হাওয়া ভাবছে মনে
এগোয় এখন কোন্ সে পথে?
পড়লো উঠে শামুক রথে৷

শামুক গতি চলছে হাওয়া,
তাপ বাড়ছে টালির ঘরে,
ভাত চাপবে একটু পরে৷

ঘরখানাকে পাক লাগিয়ে 
খোকার কাঁধে খানিক বসে
দেখল কেমন অঙ্ক কষে৷

ভাবল মনে, "অঙ্কে খাসা!
চিন্তা মায়ের থাকবে না আর",
ভেবেই হাওয়া উড়ল এবার৷

তিনপুকুরের মাঠ পেরিয়ে
গাছের পাতা সব কাঁপিয়ে
এগোয় হাওয়া স্বস্তি দিয়ে৷


অলঙ্করণ : সুকন্যা

ছড়ার ছন্দে : ইচ্ছে আঁকা : রবিনকুমার দাস




আঁকতে আমি শিখে গেছি গাছগাছালি পাখি
আঁকতে আমি পারি নাকো পাখির ডাকাডাকি।

আঁকতে আমি সব শিখেছি পাহাড়-নদী-বন,
আঁকতে আমি শিখিনিকো মানুষগুলোর মন!

আঁকতে আমায় শিখিয়েছিল মা হাত ধরে ধরে,
আঁকতে আমি শিখেছিলাম নেহাতই ভুল করে।

ইচ্ছে মতন এখন আমি আঁকতে সবই পারি-
এমন বন্যা এঁকে দেব, ভাসবে ঘর আর বাড়ি।

আঁকতে পারি এমন পলাশ সত্যি মনে হবে -
ভুল করে ফুল তুলতে গেলে ঠকবে তুমি তবে।

আঁকতে পারি যখন তখন গাছতলার ঐ ছায়া,
আঁকতে আমি পারি নাকো মায়ের স্নেহ মায়া।

হারিয়ে যাওয়া মায়ের ছবি আঁকি নিখুঁত করে 
চেয়ে চেয়ে দেখলে তোমার মনটা যাবে ভরে।

যা খুশি তাই আঁকতে পারি বলবে যখন যেটা,
দুখের ছবি আঁকতে বললে পারব নাকো সেটা।


অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী

ছড়ার ছন্দে : এবার পুজোর দিনে : শংকর দেবনাথ





মানানসই আর নানান রঙের
নকশা করা করা-
আমার তো নেই জামার অভাব।
আলমারিটা ভরা।

কিন্তু মাগো জানোই না গো
পোশাক আছে ক'টা,
কাজের পিসির মেয়ে নিশির
ছেঁড়া ও রঙচটা।

চাই না আমার নিউ জামা আর
এবার পুজোর দিনে,
ওর জন্যই একটি ভালো
পোশাক এনো কিনে।


অলঙ্করণ : সুকন্যা

ছড়ার ছন্দে : রবির বিশ্রাম : শ্রীমন্ত দে



অস্তমিত রবির আলোয়
ক্লান্তি ঝরে ধরার বুকে, 
এবার রবি অস্ত যাবে
করবে আরাম মিষ্টি সুখে।
দিনের বেলা একটা ক্ষণও
পায়নি ছাড়া আপন কাজে, 
তার দেহের ওই রোদের ছোঁয়ায়
জগৎ সাজে নতুন সাজে। 
খাবার ভরা গ্রাসের থালা
প্রাণীর মুখে নিত্য তোলে,
জঠর জ্বালা জুড়িয়ে সবাই 
বাঁচতে পারে ধরার কোলে। 
একটু বিরাম পাক না এবার
দিবস কালের কাজের পরে,
রাতটা সুখে কাটাক না সে
স্বস্তি নিয়ে নিজের ঘরে।


অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী

ছড়ার ছন্দে : পড়তে বোসো : সবিতা বিশ্বাস



মায়ের কাছে গণশা কেতু
খুব বকুনি খেলো, 
তাই না দেখে লক্ষ্মী প্যাঁচা
মুখ লুকিয়ে এলো। 

সিংহ মামা টানলো হামা
খাটের তলে ঢুকে, 
ডানা গুটিয়ে রাজহাঁসটা
চললো হেঁটে বুকে।

"পড়তে বোসো এখুনি সব
ক‍রতে বোসো অংক"!
শুনেই প্রাণ কম্প দিল
বেজে উঠল ডংক। 

"পুজো আসতে অনেক দেরি
সারো হোম টাস্ক, 
বুঝতে পারো সরোর কাছে
করতে পারো আস্ক।"

এসব শুনে সিংহবাবু
তুললো হাই "ঘ্রেয়"!
কাজ কী বলো অঙ্ক ক'ষে? 
ঘুমিয়ে নেওয়া শ্রেয়! 

অলঙ্করণ : রঞ্জন দাস

ছড়ার ছন্দে : ভয় : সুজাতা চ্যাটার্জী




কারা কারা ভয় পায়, কীসে কীসে, জানো কি?
ভয় পাওয়া ভালো নয়, সে কথাটা মানো কি?

বেড়ালটা ভয় পায় কুকুরের ডাকেতে,
হাতি ভায়া ভয় পায়, পড়ে পাছে পাঁকেতে।

হরিণের ভয় বড়, বাঘে যদি ধরে খায়,
মাছগুলো ভয়ে মরে, জালে পাছে আটকায়।

সাপ দেখে ভয় পায় পুকুরের যত ব্যাঙ,
আধো ঘুমে ভূত দেখে বুড়ো দাদু ভাঙে ঠ্যাং।

ছোট খুকি কেঁদে ওঠে, ভাবে জুজু এলো ওই!
ভয়ে ভয়ে খোকা বাবু খোলে অঙ্কের বই।

আলোর সামনে এসে ভূত যত জব্দ,
পাখিগুলো ভয় পায়, হলে জোর শব্দ।

তবে যদি কথা দাও, হবে নাকো পাঁচকান, 
চুপি চুপি কথা তবে, বলি আমি একখান-

ঢের বেশি ভয় পাই, এসবের চাইতে,
ঠান্ডা জলেতে আমি, শীতকালে নাইতে।


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : আয় বৃষ্টি ঝেঁপে : সুদীপ্ত বিশ্বাস



বৃষ্টি রে তুই আয় না ঝেঁপে আমাদের এই গাঁয়ে 
দে ছুঁয়ে দে মিষ্টি ছোঁয়া রাঙা মাটির পায়ে।

ওই যে মাটি, মাটির ভিতর শিকড় খোঁজে জল
বল্ না বৃষ্টি ওদের সঙ্গে খুশির কথা বল্।

টিনের চালে অল্প আলোয় যখন ঝরিস তুই
পুকুর ভ'রে শালুক ফোটে বাগান জুড়ে জুঁই ।

আকাশ তখন সাত রঙেতে রামধনুটা আঁকে 
সেই খুশিতে টুনটুনিটা টুটুর-টুটুর ডাকে। 

রামধনুর ওই সাতটি রঙে মন হারিয়ে যায়
অনেক দূরে তারার দেশে মেঘের সীমানায়।

মাছের খোঁজে পানকৌড়ি ওই তো দিল ডুব 
বৃষ্টি নামুক বৃষ্টি নামুক টাপুর টুপুর টুপ...


অলঙ্করণ : দেবলীনা দাস

ছড়ার ছন্দে : পরিক্রমা : সুপ্রকাশ আচার্য



রঙবেরঙের ফুলে
প্রজাপতির ডানায়,
বেছে বেছে রঙ দিল ভোর
যে রঙ যাকে মানায়।

পান্না সবুজ ঘাসে
সূর্য দেখার ছলে
শিশির কণার কানপাশাতে
আলো নিজেই দোলে।

দূরে অনেক দূরে
পালক দিয়ে আঁকা
সর্ষে ক্ষেতের হলুদ ছুঁয়ে
দিগন্ত নীল রেখা।

হাট ফেরা সাঁঝবেলা
পাহাড় থেকে নেমে,
পা ডোবা জল পেরিয়ে নদী
ঢুকল গোধূল গ্রামে।

অলঙ্করণ : সুকন্যা

ছড়ার ছন্দে : এখন সবার ছুটি : উত্থানপদ বিজলী



আয় রে তোরা আয় রে কাছে 

এখন সবার ছুটি---

উচ্ছ্বসিত নদী ডাকে

হেসে কুটিকুটি ।


নৌকো চলে ঢেউয়ের দোলায়

তরতরিয়ে কেমন

এখন ছুটি দেখতে পারি

ইচ্ছা খুশি যেমন।


হাতে এখন অনেক সময়

চল্ না পাড়ি আম

পুকুর পাড়ের ঝুলো ডালে

কালো পাকা জাম।


খেয়াল খুশি খেলতে পারি

গাইতে পারি গান 

ছুটির দিনে পড়া তো নেই 

নাচতে চাইছে প্রাণ ।


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু


ছড়ার ছন্দে : ছুটি : টুম্পা মিত্র সরকার




দোল ফাগুনের উদাস হাওয়া খেলছে গাছে গাছে

শিমুল ডালে দোয়েল পাখি শিস দিয়ে বেশ নাচে ৷

এ সব ছবি দেখছে কাকু গাছের নিচে বসে

দেখতে দেখতে কখন যে তার দু'চোখে ঘুম আসে৷



কিশোর বেলার আদুর ছবি স্বপ্নতরী বেয়ে

আরশি খাতায় বুক ফুলিয়ে উঠলো সে গান গেয়ে।

হৃদয় জুড়ে দিচ্ছে হানা একটি রুপো চাঁদ,

দোল ফাগুনের পূর্ণিমাতে ভাঙে আলোর বাঁধ।



জ্যোৎস্না মাখা ফুল-কুঁড়িরা পাপড়ি মেলে মেলে

বলছে হেসে,"রঙটি দেব আমার কাছে এলে ৷"

তক্ষুনি সব কৃষ্ণচূড়া পলাশ বকুলগুলি

দেয় সাজিয়ে আবির রঙে শৈশবের রঙ তুলি ৷



হঠাৎ কাকুর ঘুম ভেঙে যায় পিচকারীর রঙ লেগে

গুটি কয়েক কচিকাঁচা রঙ দিয়ে যায় ভেগে ৷

ব্যস্তকাজের জটিল জীবন এসেছে আজ জুটি

ছেলেবেলার দোলের মজা তাই পেয়েছে ছুটি ।


অলঙ্করণ : রঞ্জন দাস

ছড়ার ছন্দে : ছুটি : পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়




ছুটির নেশায় আমরা সবাই 
মাতি যে যার মতো 
বৃদ্ধ , যুবা ,বালক , শিশু 
আনন্দে রয় কত। 

ছুটি সে তো স্বাধীনতার 
হলো নামান্তর 
বয়স ভেদে অর্থে তাহার 
আনবেই অন্তর। 

শিশু যখন,মায়ের কোলে 
বাঁধন নাহি চায় 
ছোট্ট শিশু দু হাত তুলে 
মুক্তি মাগে হায় ।

বালক যখন, পড়াশোনার 
কঠিন নিয়ম জারি 
ছুটির তরে আঁখির কোণে 
নিত্য ঝরে বারি। 

যুবা যখন, ব্যস্ত কাজে
স্কন্ধে দায়ভার।
ছুটির তরে মনটা তখন 
অস্থির বারবার। 

বৃদ্ধ যখন,মনটা তখন 
মুক্তি শুধুই চায় 
দিবারাত্র মনটা কাঁদে 
ছুটি কবে পায়।


অলঙ্করণ : স্বর্ণদ্বীপ চৌধুরী


ছড়ার ছন্দে : ছুটি ছুটি : বনশ্রী মিত্র





বড়কাকা ছুটি নিয়ে গিয়েছিল কাশিতে

কেশে-কেশে শেষমেষ এল ফিরে বাড়িতে।

মেজকাকা ভালোবাসে ফুটবল দেখিতে

তাই ছুটি নিয়ে গেল বিলেতের মাঠেতে।


বাবা বলে, ছুটি নেই অফিসের কাজেতে

মা তাই রেগে আছে এ ভীষণ চাপেতে।

মামাবাড়ি চলে যাবে দিদি এই ছুটিতে

মামা-মামি কাত হবে ওর হুটোপুটিতে।


ভেবো না তো একা আমি বোর হব ঘরেতে

পাখিদের সাথে খেলা জমবে যে ছাদেতে

উড়ে-উড়ে চলে যাবো মেঘেদের দেশেতে

কেউ খুঁজে পাবে না তো আমাকে এ ছুটিতে।


অলঙ্করণ : রঞ্জন দাস

ছড়ার ছন্দে : ছুটি : মধুমিতা ভট্টাচার্য




ইশকুলে রোজ পড়াশুনোর বড্ড কড়াকড়ি

ক্লাশওয়র্ক আর হোমওয়র্কের কঠিন জড়াজড়ি।

অঙ্ক ভূগোল ইতিহাসে প্রাণটা নাজেহাল

বিজ্ঞান, ইংরিজি, বাংলা, হিন্দিও বেহাল।



রিসাইটেশন, স্পেলিং, জিকে তারাও কীসে কম

সোশাল স্টাডির প্রশ্নোত্তর লিখতে বেরোয় দম।

হাতের লেখা, শ্রুতিলিখন, ব্যাকরণের চাপে

মাথার ঘিলু যাচ্ছে উবে ধোঁয়ার মতন ভাপে।



কেমিস্ট্রিটার ইকোয়েশন রয়েছে বই ভরে

ভৌতজ্ঞানের ফরমুলা সব পড়লে মাথা ঘোরে।

বায়োলজির কথা শুনে কী আর হবে বলো

বাইনোমিয়াল নোমেনক্লেচার, সে-ই তো আমায় খেলো। 



পৃষ্ঠা জুড়ে খটোমটো সায়েন্টিফিক নামধাম

কেমন করে রাখব মনে জেনাস স্পিসিস ফাইলাম।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিংটা কিচ্ছু বুঝিনা যে

ভিডিওগেমস যত্তো ভাল, ওটা ততই বাজে।



ইতিহাসের সন তারিখে বেজায় ভুল হয়ে যায়

রাজাবাদশার জীবনকথা গুলিয়ে মরি হায় হায়।

উদোর ঘাড়ে চাপবে বুধো রামার পিঠে শামা

ভয়ের স্বপ্নে মাঝরাতে রোজ ঘুম ভেঙে যায় আমার।



পাহাড় নদী মরুভূমি সাগর বা বনজঙ্গল

গ্রহের ফেরে ঘুরতে থাকি বুধ শুক্র মঙ্গল।

বৃষ্টি কেন পড়ে আবার কেনই বা পড়ে না

কখন তুফান আসে, কখন পাতাটি নড়ে না।



ভূগোল পড়ে গোলকধাঁধা রাখতে হবে মনে

লিখতে হবে পৃষ্ঠা ভরে নীল কালো বলপেনে।

এত পড়ার প্রবল চাপে ভয়েই মরি রোজ

সবাই বলে "তোর ঘিলুতে বুদ্ধি কোথায়?... খোঁজ"।



আমি শুধু বসেই থাকি আসবে কখন ছুটি

পড়াশুনো বন্ধ রেখে করব ছুটোছুটি।

আম পাড়ব জাম পাড়ব উঠব গাছের ডালে

পেয়ারা, লেবু, তেঁতুল মেখে খাব দুপুর হলে।



কেউ বলেনা দিলাম ছুটি যা গিয়ে খেল মাঠে

কিম্বা যত ইচ্ছে ঘুমো দাদু দিদার খাটে।

মাছ ধর তো পুকুর থেকে মামার সঙ্গে বসে

হকি, ক্রিকেট, কাবাডি খেল কোমর বেঁধে কষে।



আঁক তো খানিক খুশির ছবি ভরিয়ে ড্রয়িং খাতা

সবুজ আকাশ, গোলাপী গাছ নীলরঙা তার পাতা।

পড়ব আমি দিলাম কথা কিন্তু আগে তার

দিও আমায় একটু ছুটি বলছি যে বারবার!


অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : খুকুমণি : রূপালী গোস্বামী




ভোর হয়েছে ফুল ফুটেছে

ডাকছে পাখিগুলো

খুকুমণির ঘুম ভেঙে গেছে

চুল যে এলোমেলো। 


খুকুমণি খুবই খুশি

ছুটির দিন যে আজ,

বেড়াতে যাবে খুকুমণি

পরবে নতুন সাজ। 


সবার কথা শোনে খুকু

সে যে খুবই ভালো

সবাই তাকে ভালোবাসে

যেন চাঁদের আলো। 

অলঙ্করণ : আবির

ছড়ার ছন্দে : ছুটি : শক্তি প্রসাদ ঘোষ




পড়া ছেড়ে উঠতেই
টেনে ধরে কান,
বাবা বলে, "কোথা যাস?
অঙ্কটা আন।"

মা বলে, "দুধ খাও,
বাংলাটা খোলো,"
দাদা বলে, "রচনাটা
পড়া শেষ হলো?"

ভূগোলটা খুলে নিয়ে
দিদি আছে বসে,
ম্যাপটাতে ভুল হলে
জোরে জোরে হাসে।

বুবাইয়ের মন ভাবে
‘ছুটি কবে পাই,
বল নিয়ে খোলা মাঠে
ছুটে চলে যাই।’

অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : ছুটির লড়াই : সুজাতা চ্যাটার্জী




সকলকে ডেকে বলে গরমের ছুটি,
“এরকম ছুটি আর নেই জেনো দুটি।
মোর পানে চেয়ে থাকে যত ছেলে-মেয়ে,
সুখেতে কাটে যে দিন, আম লিচু খেয়ে”।

সেই শুনে একজন হাসে দুলে দুলে,
বলে, “ওরে মোর কথা গেলি বুঝি ভুলে?
ঢাকেতে পড়লে কাঠি, মোর আগমন,
সকলের কাছে তাই আমি প্রিয়জন”।

শীতের ছুটিটি বলে, “ওরে তোরা থাম!
পুজোতে বৃষ্টি ঝরে, গরমেতে ঘাম।
তাইতো আমার পানে চেয়ে থাকে সবে,
ঘোরাঘুরি, পিকনিক, শীতেতেই হবে”।

সেই শুনে ছোট ছোট ছুটি ছিল যত,
হা হা রবে ছুটে আসে ডাকাতের মত।
“জেনে রেখো, বছরের শুরুতেই সবে,
খুঁজে খুঁজে দেখে মোরা আছি কবে কবে”।

গোলমাল শুনে এতো, বলে এসে খোকা,
“তোমরা সকলে দেখি একেবারে বোকা!
তোমরা বছরে আস মোটে একবার,
একবার চলে গেলে, আসো না তো আর।
তার চেয়ে ঢের ভাল আছে একজন,
ছোট-বড় সকলের ছুঁয়ে আছে মন।
সকলেই বসে থাকি পথ চেয়ে তার,
সাত দিন পর পর আসে রবিবার”।।

অলঙ্করণ : সুস্মিতা কুণ্ডু

ছড়ার ছন্দে : ছোট্টকথা : সোমনাথ চক্রবর্তী



"ছোট্ট কথা বলব না আর"
বলল হালুম দাদা, 
বিষ্টুখুড়ো চেঁচিয়ে বলে 
"কেষ্ট, রাধা রাধা।" 

ইস্টিমারের ভোঁ শুনে তাই 
মিষ্টি খুকি হাসে, 
বাপকে বলে, "হেই খোকা চল 
চড়তে হবে বাসে।"

"বাসে উঠেই পৌঁছে যাবো 
কনকশালীর স্কুলে, 
মাস পয়লার বেতন দেবে 
লজেন খাবো গুলে।"

গুলের আগে চুলের বাহার 
মিতুল দিদি হাসে, 
বলল, "ওরে ভর্তি হবি 
সবচে’ নিচু ক্লাসে।"

"কোনটা উঁচু, কোনটা নিচু 
বুঝব গিয়ে স্কুলে , 
ভাঙচি দিয়ে গোল কোরো না। 
পড়াও যাব ভুলে।"

"কোনটা লেখা, কোনটা পড়া 
কোনটা বুঝিস তুই?"
মিতুল দিদি বলল রেগে, 
"বুঝিয়ে দেবো মুই।"

মিষ্টি খুকি বলল, "সেদিন
দিলাম হাতেখড়ি। 
অর্ধেক তো শিখেই গেলাম, 
আমি কি ভয় করি ?"

বাবা বলেন, "ঠিক বলেছো 
মিষ্টিসোনা খুকু 
লেখাপড়ায় প্রথম হবে, 
চিন্তা কতটুকু!"

"এখন চলো ইস্কুলে যাই 
ভর্তি হয়ে যাবে। 
বই খাতা সব কিনতে হবে 
স্লেট পেন্সিল পাবে।"

হালুম বলে, "মালুম হবে 
আঁকলে আমার ছবি, 
খড়ির আঁকা দেখেই বুঝি 
কত্ত বড় কবি।"

হালুম গেল ইস্কুলে তাই 
বসল গাছের ডালে, 
বদনটা তার পাল্টে গেল 
পড়ল যখন খালে। 


অলঙ্করণ : দেবলীনা দাস